শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
বাংলাদেশ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইম্পোটার্স এন্ড সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরাচ্ছে ভারত আজ প্রতীক বরাদ্দ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু নির্বাচনী প্রচারণা ভালোবাসা ও নির্যাতনের দ্বন্দ্বপুরুষের হাত: ভালোবাসা ও নির্যাতনের দুই রূপ পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের লেবেল-১ ছাত্র, ছাত্রীদের মিল পরিদর্শন ভালোবাসা ও নির্যাতনের দ্বন্দ্ব পুরুষের হাত: ভালোবাসা ও নির্যাতনের দুই রূপ গণভোট হবে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার জন্য- স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগম। ইসির পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জামায়াতের নালিশ ভালোবাসা ও নির্যাতনের দ্বন্দ্ব পুরুষের হাত: ভালোবাসা ও নির্যাতনের দুই রূপ ভালোবাসা ও নির্যাতনের দ্বন্দ্ব পুরুষের হাত: ভালোবাসা ও নির্যাতনের দুই রূপ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মাঠে জামায়াত–এনসিপিসহ ১১ দল

স্টাফ রিপোর্টার / ৫০ জন দেখেছেন
আপডেট : January 8, 2026

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ১১টি রাজনৈতিক দল। সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সারাদেশে সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে দলগুলো।

সরকার ইতোমধ্যেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে বিএনপি এখনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষেই আনুষ্ঠানিক অবস্থান না নেওয়ায় নির্বাচনের আগেই রাজনীতি কার্যত দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

কী নিয়ে এই গণভোট

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী সংবিধানের কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে জনগণের সম্মতি যাচাই করতেই এই গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। ব্যালটে সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে হবে ‘হ্যাঁ’ এবং বিপক্ষে ‘না’।

প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—

  • প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা
  • নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা জোরদার
  • বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা
  • প্রশাসনে দলীয়করণ কমানো
  • মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার সুরক্ষা

সরকারের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও একক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি কমবে।

সরকারের প্রচারণা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরাও বিভিন্ন সভা ও কর্মশালায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।

সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রগঠনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ভবিষ্যতে আর কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসবে না। আগামী ৫০ বছরের রাষ্ট্রপথ এই ভোটেই নির্ধারিত হবে।”

১১ দলের সমন্বিত কৌশল

গত ৮ ডিসেম্বর জামায়াতসহ আন্দোলনরত আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণার সিদ্ধান্ত হয়। পরে এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দল যুক্ত হয়ে জোটটি ১১ দলে পরিণত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই সংস্কার মানে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ ও দলীয়করণকে ‘না’ বলা। জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হবে।”

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “স্বৈরাচারকে ‘না’ বলুন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন।”

বিএনপির অবস্থান ও রাজনৈতিক মেরুকরণ

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতেই বিএনপির আপত্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলটির নেতাদের আশঙ্কা, গণভোটের প্রশ্ন ও প্রস্তাবনাগুলো একতরফা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনদের জন্য সুবিধাজনক হবে। ফলে দলটি এখনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো অবস্থানই নেয়নি। বিএনপির নেতাদের মতে, তাদের প্রধান ফোকাস জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হওয়ায় ভোটার আচরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

গণভোট আলোচনায় আনার দাবি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “নির্বাচনের আলোচনায় গণভোট প্রায় হারিয়ে গেছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত জনসচেতনতা বাড়ানো।”

খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ একাধিক দলের নেতারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশ্লেষণ

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এতে একদিকে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যদিকে নির্বাচনী উত্তেজনায় গণভোটের গুরুত্ব চাপা পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

জামায়াত–এনসিপিসহ ১১ দলের সক্রিয় মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুললেও বিএনপির নীরব অবস্থান গণভোটকে কার্যত রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার মঞ্চে পরিণত করেছে। ফলে এই গণভোট শুধু সংস্কারের প্রশ্নেই নয়—বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রদর্শন ও ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্ডামে রূপ নিচ্ছে।


অন্যান্য সংবাদ