নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
রবিবার নেদারল্যান্ডসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইঁদুরবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের পর্যটন সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের মেরু অভিযাত্রী জাহাজ ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসংকট দেখা দিয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আর্জেন্টিনা থেকে ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। কেপ ভার্দের পথে এটি অ্যান্টার্কটিকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতি করে।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তাদের দেশের দুই নাগরিক রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, অসুস্থদের মধ্যে একজনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে। অসুস্থ ছয় যাত্রীর মধ্যে পরীক্ষায় অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ এখনো অসুস্থ যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়নি। এদিকে ডাচ কর্তৃপক্ষ দুই অসুস্থ যাত্রী এবং একজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুরের মলমূত্র বাতাসে মিশে গেলে হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে। ইঁদুরের বাস ছিল এমন জায়গা পরিষ্কার করার সময় মানুষ এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ফ্লু বা সর্দিজ্বরের মতো হলেও পরবর্তীতে এটি হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রোগটির মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ।