পাবনা প্রতিনিধি :পাবনা সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন, হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অবশেষে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা। শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মালিকদের দাবি, প্রতিনিয়ত অপমান, গালিগালাজ ও হামলার হুমকির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একজন অ্যাম্বুলেন্স মালিক বলেন, “আমরা সবসময় রোগীদের সেবা দিতে চাই। কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তাই যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে এভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”
হঠাৎ করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি রোগী ও তাদের পরিবার। বিশেষ করে রাতের বেলায় দূরবর্তী এলাকায় রোগী নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিকল্প যানবাহনের খোঁজে অনেক স্বজনকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এতে হাসপাতাল এলাকায় মানবিক সংকটের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। একই সঙ্গে রোগীদের স্বার্থে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা স্বাভাবিক করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।