সরকার সম্প্রতি ১১টি সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। একসঙ্গে এতসংখ্যক রাজনীতিবিদকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বসানোর ঘটনা দেশে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সরকারি সূত্রগুলোর মতে, এই নিয়োগের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করা। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের ভেতর থেকে সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়া। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন আমলাদের নেতৃত্বে পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত সাফল্য না আসা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, করপোরেশন ও বোর্ডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পাওয়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। ইতোমধ্যে তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আরও কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের নিয়োগের বিষয়েও সরকার ভাবছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হলে দলীয়করণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং তদবিরের প্রবণতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি এসব নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, আইন অনুযায়ী সরকার চাইলে বাইরের ব্যক্তিকেও এসব পদে নিয়োগ দিতে পারে। তাই আইনি দিক থেকে এ নিয়োগে বাধা নেই। তবে এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, দুর্নীতি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সফল হন, তাহলে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের কয়েকজনও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের দাবি, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার চেষ্টা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনায় নতুন একটি ধারা অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এ উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বাস্তব কর্মক্ষমতার ওপর। তাই এখন সবার নজর থাকবে, নতুন নেতৃত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।