সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারের ভেতরে যত ঢুকছি, ততই আতঙ্কিত হচ্ছি—কীভাবে এই কাঠামো ঠিক করা যাবে।”
স্মরণসভায় আবেগঘন বক্তব্য
শনিবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে, যেখানে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ডা. কুদ্দুসের মৃত্যু কেবল একটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং জীবনের নানা কষ্ট, অপমান ও দুঃখ তাকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সমাজে এখন এমন সৎ ও সাহসী মানুষ খুবই বিরল।
নৈতিকতার সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫-১৬ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি সমাজব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এখন এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া কোনো কাজ হয় না—যা অতীতে এতটা প্রকট ছিল না।
আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রসঙ্গ
তিনি বলেন, যদি মানুষ ডা. কুদ্দুসের আদর্শ ও নৈতিকতা অনুসরণ করতে পারে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে দেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ এবং তিনি সততা ও পরিশ্রমের গুরুত্ব প্রমাণ করে গেছেন।
সংগঠন পরিচালনার বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, জিয়া পরিষদকে ‘দোকান’ বানানো যাবে না; বরং গবেষণা ও মেধাভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আদর্শকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে হবে।
অর্থনীতি, ঐক্য ও ভবিষ্যৎ
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশ এখন বিশাল ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
তিনি তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তিনি ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতি
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তাঁর মতে, সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতি না থাকলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।