ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের দাপুটে জয়। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নেমেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল সিরিজ জয়। কিন্তু টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে টাইগাররা।
ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের চূড়ান্ত চিত্র দেখেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
ইনিংসের প্রথম বলেই বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন স্টার্ক। ফুল লেন্থের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে স্লিপে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম।
এরপর নিজের পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে শুরুতেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি হয় অজি পেসারের সামনে।
স্টার্কের তাণ্ডব সেখানেই থামেনি। মুমিনুল হককে ৯ রানে ফেরানোর পর সপ্তম ওভারে লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে সেই প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুশফিক।
প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ৬ উইকেট পড়ে যায়। লাঞ্চ বিরতিতে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।
বিরতির পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ১১ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় সেশন শুরু করা মিরাজ আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি। কামিন্সের বলে থার্ড স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর জশ হ্যাজলউডের বলে ১০ রান করে আউট হন হাসান মাহমুদ। নবম ব্যাটার হিসেবে তাসকিন আহমেদ মাত্র ১ রান করে কামিন্সের শিকার হলে বাংলাদেশের ইনিংস আরও দ্রুত শেষ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম কিছুটা লড়াই করেন। শেষ উইকেটে দুজন মিলে ২৫ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি। শরীফুল ১৪ রানে আউট হলে ৬৪ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের নায়ক স্টার্ক। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর শেষ দিকে শরীফুল ইসলামকে ফিরিয়ে ইনিংসে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে দ্রুততম ফাইফারের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন স্টার্ক। তবে এই তালিকার শীর্ষস্থানটিও তার দখলে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সেবার ক্যারিবীয়রা গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ২৭ রানে। এবারও স্টার্কের ‘ছক্কা’য় মাত্র ৬৪ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানো।