শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
আবারও দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে বাস নদীতে, উদ্ধার অভিযান চলছে অবশেষে কারামুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল ৭৯ প্রাণ, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এমবাপ্পের উত্থান, মেসিকে ঘিরে বিচ্ছেদ ও পদক প্রত্যাখ্যানের আলোচিত রাশিয়া বিশ্বকাপ ক্যামেরাভীতি থেকে ভাবমূর্তির কারিগর: পুতিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে মাজারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন পবিত্র ঈদুল আযহা: স্বাধীন নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা সিআইএস পাবনায় সমন্বিত জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হুসেন শহীদ সুহরাওয়ার্দী ও ক্রিকেট

”বহুমাত্রিক বাংলাদেশে বইয়ের উৎসবের শুরু”

মো : তুষার হোসেন / ২১৩ জন দেখেছেন
আপডেট : February 26, 2026

বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদান করা হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫—যা দেশের সাহিত্য অঙ্গনের অন্যতম সম্মাননা।

সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও এ বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে কিছুটা বিলম্বে বইমেলার পর্দা উঠছে। এর আগে করোনা মহামারির সময়ও নির্ধারিত সময়ে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অবশেষে বইমেলা শুরু হওয়ায় প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দুটোই কাজ করছে।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিনে সময়সূচি সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে প্রবেশ করা যাবে না। এবার মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। মোট ইউনিট থাকছে ১ হাজার ১৮টি। উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় শুরুতে প্রকাশকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফসহ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সবাই অংশ নিচ্ছেন। প্রকাশকদের ভাষায়, বইমেলা চালু রাখাটাই বড় সাফল্য—কারণ বইমেলা শুধু বেচাকেনার জায়গা নয়, এটি লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মিলনমেলা।

শিশুদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট থাকবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। প্রতিদিন বিকেলে মূল মঞ্চে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাও থাকছে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন থাকবে উদ্যান প্রাঙ্গণে।

এবারের বইমেলাকে পরিবেশবান্ধব ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত। প্রবেশ ও বাহিরপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে, স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি, চেতনা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও এই আয়োজন প্রমাণ করে, বইয়ের প্রতি আমাদের টান কখনো কমে না। এখন অপেক্ষা—পাঠকের প্রাণচঞ্চল পদচারণায় মুখর হয়ে উঠুক বইমেলার প্রাঙ্গণ।


অন্যান্য সংবাদ