শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
আবারও দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে বাস নদীতে, উদ্ধার অভিযান চলছে অবশেষে কারামুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল ৭৯ প্রাণ, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এমবাপ্পের উত্থান, মেসিকে ঘিরে বিচ্ছেদ ও পদক প্রত্যাখ্যানের আলোচিত রাশিয়া বিশ্বকাপ ক্যামেরাভীতি থেকে ভাবমূর্তির কারিগর: পুতিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে মাজারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন পবিত্র ঈদুল আযহা: স্বাধীন নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা সিআইএস পাবনায় সমন্বিত জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হুসেন শহীদ সুহরাওয়ার্দী ও ক্রিকেট

ক্যামেরাভীতি থেকে ভাবমূর্তির কারিগর: পুতিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা

রিপোর্টারের নাম / ১৯ জন দেখেছেন
আপডেট : June 1, 2026

একসময় ক্যামেরার সামনে বেশ অস্বস্তি বোধ করতেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। সংযত ও অন্তর্মুখী স্বভাবের এই সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা সময়ের সঙ্গে নিজেকে এমনভাবে বদলে নিয়েছেন যে, আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা ধরে রাখা এবং জনমনে শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশনকে অত্যন্ত কৌশলে ব্যবহার করেছেন তিনি।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুতিন বুঝতে পেরেছিলেন, আধুনিক রাজনীতিতে ছবি ও দৃশ্যমান উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁর জনসংযোগ দল এমন একটি ব্যক্তিত্ব নির্মাণে কাজ করে, যেখানে তিনি একজন শক্তিশালী, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। মদ্যপান থেকে দূরে থাকা, সুস্থ জীবনযাপন এবং দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁকে উপস্থাপন করা হয়।

বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রচারণামূলক ছবিতে পুতিনকে কখনো যুদ্ধবিমান চালাতে, কখনো জুডো খেলতে, আবার কখনো খালি গায়ে ঘোড়ায় চড়তে দেখা গেছে। এসব দৃশ্যের মাধ্যমে জনগণের কাছে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় যে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী একজন নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছিল পরিকল্পিত ভাবমূর্তি নির্মাণের অংশ।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পুতিন। শুরুতে তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকলেও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনৈতিক মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিত্ব, পোশাক, উপস্থাপনা ও জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরনেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই রূপান্তর শুধু ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়, রাজনৈতিক বিরোধীদের পরিসর সংকুচিত হয় এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়।

২০১১ সালের পর পুতিনের প্রকাশ্য উপস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় তাঁর শারীরিক পরিবর্তন এবং আচরণ নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হলেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর, তাঁর ভাবমূর্তি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী পুতিন আগের তুলনায় অনেক কম জনসমক্ষে আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তাঁর উপস্থিতি এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। একসময় যে নেতা নিজেকে ক্রীড়াবিদ ও অ্যাকশন-হিরো হিসেবে তুলে ধরতেন, আজ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও চলমান যুদ্ধই তাঁর ভাবমূর্তির প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্যামেরার সামনে অস্বস্তি বোধ করা একজন কর্মকর্তা থেকে বিশ্বরাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা পুতিনের ব্যক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি আধুনিক রাজনৈতিক প্রচারণার শক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।


অন্যান্য সংবাদ