সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
মাওয়া হাইওয়ের পাশে নিমতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী দখলের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী গ্যাসসংকটে শিল্প খাত বিপর্যস্ত, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাড়ছে শঙ্কা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক: ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের মায়ের সেবা – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন PRP থেরাপি: শরীরের নিজের শক্তিতেই সুস্থতার নতুন সম্ভাবনা -ডাঃ চৈতী মালাকার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সার সংকটের আশঙ্কায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, বিপদে পড়তে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি মুন্সীগঞ্জের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) জামাল উদ্দিন চৌধুরী (এমপি): মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনানায়কের জীবন ও অবদান গ্রামীণ সড়কে বারবার পিচ উঠে যাওয়া: টেকসই সমাধানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের দাবি

আমার মা : মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন

নিজস্ব প্রতিবেদন / ৩৮ জন দেখেছেন
আপডেট : July 19, 2026

আমার মা এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখেছি খুব শান্ত, ধৈর্যশীল আর মমতাময়ী একজন মানুষ হিসেবে। তিনি কখনো বেশি কথা বলেন না, কিন্তু তার প্রতিটি কাজে, প্রতিটি স্পর্শে লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা।

এসএসসি পরীক্ষা শেষ। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম বনভোজনে যাবো। সবাই খুব উত্তেজিত, কিন্তু আমার মনে এক ধরনের অস্বস্তি—বাবার কাছে টাকা চাইতে ভয় লাগছিল। সাহস পাচ্ছিলাম না কিছু বলার।

মা কেন জানি সব বুঝে ফেললেন। মাথায় হাত বুলিয়ে খুব নরম স্বরে বললেন, “কিছু লাগবে? টাকা প্রয়োজন?”আমি একটু ইতস্তত করে বললাম, “বন্ধুদের সঙ্গে বনভোজন করবো…”মা হেসে বললেন, “ঠিক আছে।”পাঁচ মিনিট পর তিনি ফিরে এসে আমার হাতে পাঁচশ টাকা দিলেন। অথচ আমার এত টাকার প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে টাকার চেয়েও বড় ছিল মায়ের বোঝাপড়া—না বললেও বুঝে যাওয়া, না চাইতেই দিয়ে দেওয়া। সেই ভালোবাসার স্পর্শ আজও আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে।সময় গড়ালো। বড় হলাম। জীবনের প্রয়োজনে চাকরির জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হলো। নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন সংগ্রাম—সবকিছু মিলিয়ে জীবনটা যেন অন্যরকম হয়ে গেল। তখনই বুঝতে পারলাম, ঘরের ভেতর যে মানুষটা নীরবে আমার জন্য সবকিছু সহজ করে দিতেন, তিনি কতটা বড় আশ্রয় ছিলেন।দূরে থাকলেও একটা অদ্ভুত বিষয় আমি বারবার অনুভব করেছি—আমার যখনই কোনো কিছুর প্রয়োজন হতো, কিংবা মন খারাপ থাকতো, মা যেন দূর থেকেই তা বুঝে যেতেন। হঠাৎ ফোন করে বলতেন, “তোর কি কিছু লাগবে?” বা “মন খারাপ নাকি?”আমি অবাক হয়ে যেতাম। অনেক সময় কিছু বলার আগেই মা ঠিকই জেনে যেতেন আমার মনের খবর। কখনো টাকা পাঠিয়ে দিতেন, কখনো শুধু দুটো কথা বলেই মনে সাহস জোগাতেন।তখন বুঝেছি, মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কটা শুধু কাছে থাকায় সীমাবদ্ধ নয়—এটা হৃদয়ের, অনুভূতির এক অদৃশ্য বন্ধন। দূরত্ব যতই হোক, সেই টান কখনো কমে না।আজ আমি যত বড়ই হই না কেন, যত দূরেই যাই না কেন—মায়ের কাছে আমি সেই ছোট্ট সন্তানই রয়ে গেছি। আর আমার কাছে মা মানেই এক অদৃশ্য ছায়া, এক নিরাপদ আশ্রয়, এক অফুরন্ত ভালোবাসার নাম।

মা, তুমি আছো বলেই জীবনটা এত সুন্দর, এত পূর্ণ।

 

 

 

 

 

 

 

 


অন্যান্য সংবাদ