সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
মাওয়া হাইওয়ের পাশে নিমতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী দখলের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী গ্যাসসংকটে শিল্প খাত বিপর্যস্ত, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাড়ছে শঙ্কা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক: ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের মায়ের সেবা – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন PRP থেরাপি: শরীরের নিজের শক্তিতেই সুস্থতার নতুন সম্ভাবনা -ডাঃ চৈতী মালাকার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সার সংকটের আশঙ্কায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, বিপদে পড়তে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি মুন্সীগঞ্জের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) জামাল উদ্দিন চৌধুরী (এমপি): মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনানায়কের জীবন ও অবদান গ্রামীণ সড়কে বারবার পিচ উঠে যাওয়া: টেকসই সমাধানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের দাবি

ছয় মাসে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই, বাড়ছে বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা

স্টাফ রিপোর্টার / ৬৭ জন দেখেছেন
আপডেট : July 6, 2026

দেশের শিল্প খাতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, আর্থিক সংকট, ব্যাংকঋণের জটিলতা এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন মালিকেরা। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ছাঁটাই করা হচ্ছে।

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং ও ইউনিক ডিজাইনার্স কারখানা গত ১৬ জুন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। কারখানা বন্ধ হলেও অনেক শ্রমিক এখনো বকেয়া বেতন, ভাতা ও ক্ষতিপূরণ পাননি।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কারখানা উৎপাদন বন্ধ করছে কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। অনেকেই আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থও পাচ্ছেন না।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশের আটটি শিল্পাঞ্চলের ৭৯টি কারখানা থেকে ৭ হাজার ৭৮৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুর অঞ্চলে। মার্চ ও মে মাসে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে বিজিএমইএর হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এসব কারখানার মধ্যে ২৭টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

গাজীপুরেই ছয় মাসে ৪৪টি কারখানায় ২ হাজার ১৫৫ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও আর্থিক সংকটের কারণে শতাধিক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। বাকি অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, অসদাচরণ কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক অভিযোগের কারণ দেখিয়ে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

ঈদুল আজহার ছুটির পর সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা একসঙ্গে ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইন অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

পোশাকশিল্প মালিকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ব্যাংকঋণ পেতে জটিলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক কারখানা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে নতুন নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং ছাঁটাই বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনেও এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে শ্রমিক নেতারা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাঁদের দাবি, রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস না থাকলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেআইনিভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, কারখানা বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই এবং ক্ষতিপূরণ পরিশোধের বিষয়গুলো সরকারিভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের আইন অনুযায়ী সব পাওনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

 


অন্যান্য সংবাদ