রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
মাওয়া হাইওয়ের পাশে নিমতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী দখলের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী গ্যাসসংকটে শিল্প খাত বিপর্যস্ত, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাড়ছে শঙ্কা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক: ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের মায়ের সেবা – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন PRP থেরাপি: শরীরের নিজের শক্তিতেই সুস্থতার নতুন সম্ভাবনা -ডাঃ চৈতী মালাকার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সার সংকটের আশঙ্কায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, বিপদে পড়তে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি মুন্সীগঞ্জের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) জামাল উদ্দিন চৌধুরী (এমপি): মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনানায়কের জীবন ও অবদান গ্রামীণ সড়কে বারবার পিচ উঠে যাওয়া: টেকসই সমাধানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের দাবি

তরুণদের স্বাস্থ্য: সুস্থ প্রজন্মই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি-ডা. রিফাত আল মাজিদ 

নিজস্ব প্রতিবেদন / ৩০ জন দেখেছেন
আপডেট : July 22, 2026

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জনমিতিক সুবিধার (Demographic Dividend) সময় অতিক্রম করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, দক্ষ এবং কর্মক্ষম হয়, তবে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন এবং মানসিক চাপের কারণে তরুণদের মধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা।একসময় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ কিংবা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগকে মধ্যবয়সীদের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মজীবনের শুরুতেই অনেক তরুণ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, উচ্চমাত্রার চিনি ও লবণযুক্ত খাবার এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস এর অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।তবে শারীরিক অসুস্থতার চেয়েও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। পড়াশোনা, চাকরি, বেকারত্ব, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে গিয়ে অনেক তরুণ উদ্বেগ, হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। অনেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ নীরবে মানসিক কষ্ট বহন করছেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে এখনও নানা ধরনের ভুল ধারণা ও সংকোচ থাকায় অধিকাংশ তরুণ সময়মতো বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন না। অথচ মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন সংকট তৈরি করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন গেমে সময় কাটানোর ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোখের সমস্যা, ঘাড় ও কোমরের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আরও বেশি প্রয়োজন।এছাড়া ধূমপান, ই-সিগারেট, মাদকাসক্তি এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনেক তরুণের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল কিংবা মানসিক চাপ থেকে শুরু হওয়া এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সুস্থ থাকতে হলে তরুণদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া এবং প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধূমপান, ই-সিগারেট ও মাদক থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে পরিবারকে সময় দেওয়া, বই পড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বও অপরিসীম। নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ওজন, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতের জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই কমানো যায়।তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়। পরিবারকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি এবং সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের তরুণদের ওপর। তাই তরুণদের স্বাস্থ্যকে ব্যয় নয়, জাতীয় উন্নয়নের বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। সুস্থ, সচেতন ও কর্মক্ষম তরুণ সমাজই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। আজকের সঠিক স্বাস্থ্যচর্চাই আগামী দিনের শক্তিশালী জাতি গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ডা. রিফাত আল মাজিদ

কনসাল্টেন্ট, প্রিভেন্টিভ মেডিসিন

এমবিবিএস(ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ), এমপিএইচ(বিএমইউ)

গুলশান ডায়াবেটিস কেয়ার হাসপাতাল, গুলশান ২, ঢাকা

rifatalmazid@gmail.com

01845903485


অন্যান্য সংবাদ