যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের আগাম চুক্তির দাম ২ দশমিক ০৯ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৭১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের চাপে পড়বে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমান বাস্তবতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত কমার সম্ভাবনা খুবই কম, ফলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির বিকল্প একটি রুটে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। যদিও এ দাবির স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। এতে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, পরিবহন খরচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।