মানুষ, কবিতা ও মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠা এক হৃদয়বান মানুষ । জন্ম ১৯৭৫ সালের আগস্টে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ, সংস্কৃতিমনা ও সৃজনশীল এক প্রাণ। একইসঙ্গে তিনি কবি— তাঁর লেখনীতে মমতা, ভালোবাসা আর দেশপ্রেমের অনবদ্য প্রকাশ ঘটে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ “মা”, যা পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে এবং তাঁকে এনে দেয় একাধিক সাহিত্য পুরস্কার।
শৈশবের স্মৃতি দূর শৈশবের প্রথম স্মৃতি জড়িয়ে আছে ঈশ্বরদীতে, তাঁর নানার বাড়িতে। গ্রীষ্মের ছুটিতে খালাতো-মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে হাসিখুশি দিনগুলো আজও মনে গেঁথে আছে। নানা-নানীর মুখে হাসি, পিঠাপুলির গন্ধ আর খেলাধুলার আনন্দে ভরা সেই দিনগুলোই ছিল তাঁর সুখের রাজ্য। কিন্তু ছুটি শেষে ফেরার সময়, ঘোড়ার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নানা-নানীর চোখের সেই গভীর স্নেহ— আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন।
বন্ধুত্ব ও কৈশোর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পাবনার রাধানগরে। স্কুল, পাড়া, বন্ধু আর খেলাধুলায় ভরা ছিল তাঁর দিন। পাবনার প্রায় সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন।
প্রতিদিন ডায়েরিতে লিখতেন— বন্ধুদের গল্প, আনন্দ-বেদনা, কখনো কবিতা, কখনো ছোট গল্প।
বন্ধু হারানোর কষ্টও যেমন অনুভব করেছেন, তেমনি নতুন সম্পর্কের উষ্ণতাও পেয়েছেন হৃদয় ভরে।
প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “মা”।
চাকরিজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। বইটি প্রকাশের পর পাঠকদের ভালোবাসা ও প্রশংসা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে আরও লেখার জন্য।
তিনি বলেন, “সবাই যখন বলল বইটা ভালো লেগেছে, তখন আমার হৃদয়টা নেচে উঠেছিল— ঠিক যেমনটা শৈশবের আনন্দে নেচে উঠতাম।”
প্রেরণা ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব বাংলার প্রিয় কবি ও সাহিত্যিকদের মধ্যে তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস—শামসুর রাহমান, হুমায়ূন আহমেদ, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, খান আতাউর রহমান।দেশপ্রেম, মানবতা ও জীবনের সৌন্দর্যকে যেভাবে তাঁরা তুলে ধরেছেন, সেখান থেকেই তিনি শিখেছেন লেখার শক্তি।গান শুনতে ভালোবাসেন মান্না দে, তপন চৌধুরী ও সত্যজিৎ রায়ের সুর। তাদের সংগীত তাঁর চিন্তা ও কল্পনাকে প্রশান্ত করে।
ব্যক্তিত্ব ও জীবনের দর্শন নিজেকে তিনি বলেন— “আমি সৎ, আর মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসার কোনো শেষ নেই।”
সাহস ও সততা তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক।
মানুষের সুন্দর ব্যবহার তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে।
প্রিয়জনদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শোনা প্রশংসাবাক্য— “তুমি ভীষণ মানবিক।”