রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
মাওয়া হাইওয়ের পাশে নিমতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী দখলের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী গ্যাসসংকটে শিল্প খাত বিপর্যস্ত, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাড়ছে শঙ্কা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক: ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের মায়ের সেবা – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন PRP থেরাপি: শরীরের নিজের শক্তিতেই সুস্থতার নতুন সম্ভাবনা -ডাঃ চৈতী মালাকার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সার সংকটের আশঙ্কায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, বিপদে পড়তে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি মুন্সীগঞ্জের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) জামাল উদ্দিন চৌধুরী (এমপি): মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনানায়কের জীবন ও অবদান গ্রামীণ সড়কে বারবার পিচ উঠে যাওয়া: টেকসই সমাধানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের দাবি

মিলনের সাহসী সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৫১ জন দেখেছেন
আপডেট : November 11, 2025

এহসানুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৮২ সালে পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানে প্রায় ১ যুগের মতো বসবাস করেন। এরমধ্যে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্বও পেয়ে যান।

৯৬ সালে ভোটের আগে দেশে ফিরে আসেন। বেগম জিয়ার পরামর্শে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারই প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যান তিনি। কিন্তু সেবার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার হুমায়ুন রশিদ কবিরকে, যেখানে উল্লেখ করা হয় বিএনপির সাংসদ এহসানুল হক মিলনের আমেরিকার নাগরিকত্ব রয়েছে, তাই অবিলম্বে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হোক।

স্পিকার কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এই চিঠি ইস্যু করে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে দেন।

এহসানুল হক এটার সুরাহা করতে আদালতের দারস্থ হন। দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার হিয়ারিং চলতে থাকে। চলমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে আরেক সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসে।

এরমধ্যে মিলন আওয়ামী লীগের বাটপারি এক্সপোজ করে দেন জাতির সামনে। তিনি ঘেঁটেঘুটে বের করেন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীরও ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র আদালতে উপস্থাপন করেন।

এরমধ্যে ২০০১ সালে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলো। আদালত রায় দিলো নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে তাদেরকে বিদেশি নাগরিকত্ব স্যারেন্ডার করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সেই প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু মিলন ঘোষণ দেন আমেরিকার নাগরিকত্ব ছাড়বার। তিনি ঢাকায় আমেরিকার অ্যাম্বাসিতে রীতিমতো বড় আয়োজন করে তার নাগরিকত্ব স্যারেন্ডার করেন। এই ঘটনা দেশে তখন বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। মিলনের এমন সাহসী সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

২০০১ সালের সেই নির্বাচনে চাঁদপুর থেকে পুনরায় বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন মিলন। বেগম জিয়া তার কাঁধে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব তুলে দেন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজের জাত চেনান মিলন! ২০০১-০৬ সালের মধ্যে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন, তাদের কাছে শুনতে পারবেন মিলনের গল্প। ঐ সময়ে দেশের পাবলিক পরীক্ষায় সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

প্রটোকল ছাড়াই একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে সরাসরি এই কেন্দ্র থেকে ওই কেন্দ্রে চুপিসারে চলে যেতেন। হেলিকপ্টারে করে একইদিনে একাধিক শিক্ষাবোর্ডের অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন। এখনকার সময় যা হয়, হলে পোলাপান দেখাদেখি করলে গার্ডে থাকা স্যার-ম্যাডামরা যখন খবর পান বোর্ডের কোন অফিসার আসতেছে সদলবলে, তখন পোলাপানকে সতর্ক করে দেয়। সেই সময় মিলন কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতেন চুপিসারে। এক বছরের মধ্যে পোলাপানের এরকম একটা মাইন্ডসেট হয়ে গিয়েছিল ‘পড়ালেখা করা ছাড়া পাশ করার কোনো উপায় নাই’।

মিলনের মোটিভ ছিল, কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে চেনাতে হবে। এবং এমনভাবে কাজ করতে হবে, যা দীর্ঘকাল মনে রাখবেন দেশের মানুষ।

দেশের সফল মন্ত্রীদের মধ্যে ডেফিনেটলি মিলন একজন। মানুষ তার সেই সময়কার ইতিবাচক কাজের গল্প এখনো করে। প্রত্যাশা করে এরকম মন্ত্রীর।

মিলন এবারও নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্য বিএনপি তার নমিনেশন কনফার্ম করেছে। তিনি সাংসদ হতে পারলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তারেক রহমান তার ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আস্থা রাখেন কিনা, সেটা দেখার বিষয়।


অন্যান্য সংবাদ