নেপালে তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ heinous (জঘন্য) অপরাধে জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং অপরাধ দমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন মানবাধিকারকর্মী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সম্প্রতি দেশটির মধেশ প্রদেশের বারা জেলার সিমারা এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বীরগঞ্জ-পাথলাইয়া সড়ক অবরোধ করে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর আসামির জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে, যার ফলে জনগণের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকারের পক্ষ থেকে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করে একটি লিখিত সমঝোতা চুক্তি সই করা হয়। চুক্তিতে সরকার এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই দেশটিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত বিদ্যমান সাজার মেয়াদ আরও কঠোর করার বিষয়ে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেপাল পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে ২৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী ছিল ১০ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশু।