মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
নেপালে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: ন্যায়বিচার ও কঠোর আইনের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের ১৪ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিনামূল্যে কলেরার টিকা, আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষ ১৬৪ বছরের অপেক্ষা শেষে পাবনায় স্বপ্নের রেলযাত্রার নতুন অধ্যায় ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান শুরু মঙ্গলবার, উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার BMEISA-এর জমজমাট গেট-টুগেদার ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত শপথ – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

১৬৪ বছরের অপেক্ষা শেষে পাবনায় স্বপ্নের রেলযাত্রার নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদন / ৪৬ জন দেখেছেন
আপডেট : August 24, 2026

রেলপথের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু যাতায়াতের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্মৃতি, ইতিহাস, অর্থনীতি ও উন্নয়নের স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার মানুষের রেল যোগাযোগেও যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রেলযাত্রার যে ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল, তার ১৬৪ বছর পর পাবনায় রেল যোগাযোগের বিস্তারে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।

পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলার সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করা। সেই প্রত্যাশার ধারাবাহিকতায় লস্করপুরে নতুন স্টেশন ও রাজধানীমুখী ট্রেন চলাচলের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস।

পাবনায় রেল যোগাযোগের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। জেলার সঙ্গে রেলপথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েক দশক আগে। ১৯৭৪ সালে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী ঘাট পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ সালে প্রকল্পটি নতুন করে হাতে নেওয়া হয়। পরে রেলপথটি নগরবাড়ী ঘাটের পরিবর্তে ঢালারচর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়। ধারাবাহিক নির্মাণকাজ শেষে ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

ওই দিন পাবনা জেলা শহর সরাসরি রেল যোগাযোগের আওতায় আসে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হলেও রাজধানী ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে আরও সহজ ও সরাসরি রেল যোগাযোগের দাবি থেকেই যায়।

নতুন স্টেশন ও ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাবনার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, রেল যোগাযোগ শুধু একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার সংযোগ তৈরি করে না; এটি মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় এবং একটি অঞ্চলের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে। তাই নতুন রেলসেবা পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।

ঐতিহাসিক সেই রেলযাত্রার ১৬৪ বছর পর পাবনায় নতুন রেলপথ স্টেশন ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা—এবারের যাত্রা যেন শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নয়, বরং উন্নয়ন সম্ভাবনার নতুন পথচলারও সূচনা।


অন্যান্য সংবাদ