বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডারউইন টেস্টে ব্যর্থ হওয়া ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে তাঁর জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে ম্যাট রেনশকে।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে এই পরিবর্তন আনে। দ্বিতীয় টেস্টটি আগামী শনিবার ম্যাকাইয়ে শুরু হবে। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে হারাতে অস্ট্রেলিয়া নতুন ওপেনিং সমন্বয় নিয়ে মাঠে নামতে পারে।
প্রথম টেস্টে ওয়েদারাল্ড দুই ইনিংসে করেন মাত্র ২৩ ও শূন্য রান। তাঁর ব্যাটিং নিয়ে ম্যাচের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়তে হলো ৩১ বছর বয়সী এই ওপেনারকে।
গত মৌসুমেও ওয়েদারাল্ডের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। অ্যাশেজসহ ছয়টি ম্যাচ খেলে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২২৪ রান, গড় ২০.৩৮। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও দুই ইনিংসের কোনোটিতেই তিনি ইনিংস বড় করতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য প্রথম টেস্টের পর ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ওয়েদারাল্ডের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ম্যাট রেনশ ২০২৩ সালের পর আবার টেস্ট দলে ফিরেছেন। সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি।
গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে রেনশর পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভালো। তিনটি সেঞ্চুরিসহ তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৪৯.৯০। সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সুযোগ পেয়েছেন এই ব্যাটার।
টেস্ট ক্রিকেটে রেনশর গড় ২৯.৩১। তাঁর সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস ১৮৪ রান, ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। ফলে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুর সঙ্গে রেনশর পরিচিতিও অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
২০২৪ সালে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া দলে ওপেনিং পজিশন নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা চলছে। ওয়েদারাল্ডকে বাদ দেওয়ার পর ওয়ার্নারের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওপেন করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়াল সাতজনে।
বর্তমানে ট্রাভিস হেড ওপেনিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসার নাম। সর্বশেষ অ্যাশেজে সফল হওয়ার পর তিনি ওপেনারের ভূমিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে নাথান ম্যাকসুয়ানি, স্যাম কনস্টাস, মারনাস লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকেও ওপেনিংয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।
ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড, জস ইংলিশ ও স্কট বোল্যান্ড।
ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তাই ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি।
দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নতুন ওপেনিং জুটি কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।