শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
পবিত্র ঈদুল আযহা: স্বাধীন নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা সিআইএস পাবনায় সমন্বিত জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হুসেন শহীদ সুহরাওয়ার্দী ও ক্রিকেট ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘ফেল’! গাজাযুদ্ধে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ ৫১ দেশ! আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল আজহার এক সপ্তাহের ছুটি রংপুরে সিআইএস’র জুনিয়র হাই স্কুল সিমুলেশন ড্রিল প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন পাবনা সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে রোগী-স্বজন পাবনা প্রতিনিধি : ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে অসহায় রোগীদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

না ফেরার দেশে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র

বিনোদন ডেস্ক / ৪১৬ জন দেখেছেন
আপডেট : November 11, 2025
না ফেরার দেশে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র

শোকস্তব্ধ বলিউড। গোটা ভারতের বুকে নেমে এল অন্ধকার। মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। এ যেন এক যুগের অবসান। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একের পর এক হিট, মোটের ওপর ২৪৭টি ছবি। ভাঙল জয়-ভিরু জুটি। চিরনিদ্রার দেশে ধর্মেন্দ্র। গত কয়েকমাস ধরেই বার্ধক্যজণিত কারণে অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। শেষ সময় থাকছিলেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গেই। ধীরে ধীরে সুস্থও হচ্ছিলেন তিনি। তবে কয়েকদিন আগেই খবর মেলে হাসপাতালে ভর্তি কিংবদন্তি অভিনেতা।

শোনা গিয়েছিল, কিছু রুটিন চেকআপের জন্যেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সোমবার বেলা গড়াতেই মেলে খারাপ খবর। শোনা যায় বর্ষীয়ান অভিনেতাকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ছিলেন ভেন্টিলেশনে। ধর্মেন্দ্রর চিকিৎসার জন্য আলাদা মেডিক্যাল বোর্ডও তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটা মুহূর্তে কড়া নজর রাখছিলেন চিকিৎসকেরা।

সানি দেওলের টিম একটি অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে তার মৃত্যুর খবর পুরোপুরি গুজব। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনাব ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। পরবর্তীতে তার অবস্থা সম্পর্কে আপডেট জানানো হবে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে মিথ্যা গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করছি। সবাইকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করতে ও পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’ বিবৃতিটি স্বাক্ষর করেছে ‘টিম সানি দেওল’।

আগামী ডিসেম্বর মাসে ৯০ বছরে পা রাখবেন ধর্মেন্দ্র। ৯০ বছর বয়স হলেও, বলিউডে এখনও দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে জুটি বেঁধে করণ জোহরে ‘রকি অউর রানি কি প্রেমে কাহানি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় সিনেমার পর্দায় ম্যাজিক তৈরি করেছিল। এমনকী, সদ্য প্রকাশ্যে এসেছিল তাঁর পরবর্তী ছবির ঝলক।

তবে সেই ছবির মুক্তি আর দেখা হল না। সোমবার বিকেল থেকে হাসপাতাল চত্বরে বেড়েছিল তৎপরতা। তড়িঘড়ি ধর্মেন্দ্রকে দেখতে ছুটেছিলেন হেমা মালিনিও। গোটা ভারত তখন তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছিল। তবে শেষ রক্ষা হল না। সকলকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নিলেন রূপলি পর্দার হি-ম্যান ধর্মেন্দ্র। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়ের অবসান।

এদিকে গতকাল সোমবার মাঝরাতে তাঁর টুইটার হ্যান্ডেলে লিখলেন, আমার অপরাধ ক্ষমা করো। আর শাস্তি দিও না আমায়। আমি ভেঙে পড়ছি। আর পরীক্ষা নিও না। তোমার সমস্ত আশীর্বাদ আমার ওপর বহাল থাকুক।

ধর্মেন্দ্র-হেমার প্রেম ৪৪ বছরের দাম্পত্য জীবন
বলিউডের সবথেকে বিতর্কিত সম্পর্কগুলির মধ্যে একটি হল ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেম আর বিয়ের সম্পর্ক। যা এখনও চর্চার অংশ। তাদের প্রায় ৪৪ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হল। মৃত্যুকালে ধর্মেন্দ্রর বয়স হয়েছিল ৮৯। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ৯০ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল বলিউড স্টারের।

বলিউডের চর্চিত সম্পর্কগুলির মধ্যে একটি হল হেমা আর ধর্মেন্দ্রের সম্পর্ক। কারণ হেমার সঙ্গে প্রেম আর বিয়ে এই সবের আগেই ধর্মেন্দ্র বিবাহিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, চার সন্তানের বাবাও ছিলেন। তাঁদের সম্পর্ক দুই পরিবারের কেউ-ই মেনে নিতে পারেননি।

প্রেম বড় কঠিন। সেখানে সমাজ, যুক্ত, কিছুই খাটে না। শেষপর্যন্ত হেমা মালিনীকে বিয়ে করার জন্য দুজনেই ধর্মান্তরিত হন। তবে এই দেশে নয় , বিদেশে গিয়ে বিয়ে সারেন। যদিও হেমার সঙ্গে বিয়ের পরেও ধর্মেন্দ্র তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন। সেখানেই তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৮০ সালে ২ মে হেমা আর ধর্মেন্দ্র বিয়ে করেন। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ৪৪ বছর। কিন্তু এখনও হেমার প্রতি প্রেম অটুট রয়েছে। পঞ্জাবী রীতিতে বেড়ে ওঠে ধর্মেন্দ্র। আর হেমা দক্ষিণভারতী। দুজনেই দুই ঘরানার। কিন্তু তা তাদের সম্পর্কের মধ্যে কখনই আসেনি।

ধর্মেন্দ্র আর হেমার মেয়ে এষা সম্প্রতি একটা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা তাঁর মাকে এতটাই সম্মান করতেন, তাঁর মায়ের পছন্দকে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে হেমার সঙ্গে থাকার সময় ধর্ম মাছ, মাংসের মত আমিষ খাবার ছুঁয়েও দেখতেন না। হেমার সঙ্গে থাকার সময় ধর্মেন্দ্র পুরোপুরি নিরামিষ খাবার খেতেন।

কত টাকার সম্পত্তি তৈরি করেছেন
ধর্মেন্দ্র তার কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে তার স্থান তৈরি করেছিলেন। তার ছবিগুলি খুব প্রশংসিত হয়েছিল। রিপোর্ট অনুসারে, ধর্মেন্দ্র ৪৫০ কোটি টাকার মোট সম্পদের মালিক। ধর্মেন্দ্র বেশ কয়েকটি সম্পত্তির মালিক। তবে, এত কিছুর পরেও তিনি ফার্মহাউসে থাকেন। ধর্মেন্দ্র প্রায়শই ফার্মহাউস থেকে ভিডিও এবং ছবি পোস্ট করেন, ফার্মহাউসে তার সময় কাটানোর ছবি শেয়ারও করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন ধর্মেন্দ্র কেন ফার্মহাউসে থাকেন?

ববি দেওল একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে তার বাবা ফার্মহাউসে একা থাকেন না। তার মাও সেখানে থাকেন। ববি বলেছিলেন, “মানুষ মনে করে আমার বাবা খামারবাড়িতে একা থাকেন। এটা সত্য নয়। আমার মাও তার সঙ্গে থাকেন। তারা দুজনেই খান্ডালায় থাকেন। আমার মা এবং বাবা একসঙ্গে থাকেন। আমার মা এবং বাবা ফার্মহাউসে থাকতে ভালোবাসেন। তারা এখন বৃদ্ধ। তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

ধর্মেন্দ্রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি দুবার বিয়ে করেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রথমবার বিয়ে করেন ১৯৫৪ সালে। তার প্রথম স্ত্রীর নাম প্রকাশ কৌর। ধর্মেন্দ্র এবং প্রকাশের চারটি সন্তান রয়েছে: ছেলে সানি দেওল এবং ববি দেওল, এবং মেয়ে অজিতা এবং বিজেতা। সানি দেওলের দুটি সন্তান, করণ দেওল এবং রাজবীর দেওল। ববি দেওলের দুটি সন্তান, ধর্ম এবং আর্যমান দেওল। বিজেতার একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে এবং অজিতার দুটি মেয়ে রয়েছে।

এর পরে, তিনি অভিনেত্রী হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন। প্রকাশ কৌর ধর্মেন্দ্র-এর ডিভোর্স হয়নি। সেই কারণেই ধর্মেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং হেমাকে বিয়ে করেন। হেমা এবং ধর্মেন্দ্র ১৯৮০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বিবাহ থেকে তাদের দুই কন্যা, এশা এবং অহনা দেওল।


অন্যান্য সংবাদ