
ডা: শিবতোষ রায় এবং তার টিম
চারপাশের দৃষ্টিনন্দন গ্রাম্য প্রকৃতির মাঝে জন্মেছিলেন এক নিরহংকার প্রাণ। নাম তাঁর ডা. শিবতোষ রায়। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কোনো অলীক খ্যাতির পেছনে ছুটেননি, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উজাড় করে দিয়েছেন অদৃশ্য এক শত্রুর—আর্সেনিক—বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।
অদৃশ্য বিষের বিরুদ্ধে এক প্রাণনিবেদিত যোদ্ধা বাংলার এক সাদামাটা প্রান্তিক গ্রাম—রাজারহাট, কুড়িগ্রাম। সেই বৈদ্যেরবাজার গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের প্রথাগত পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিলেন পৃথিবীর নিঃশব্দ এক সংকটের বিরুদ্ধে প্রথমসারির যোদ্ধা। তিনি ডা. শিবতোষ রায়—আর্সেনিক গবেষণার আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক, গবেষক এবং এক অনুপম মানবদরদি।
✒️ অদৃশ্য ঘাতকের বিরুদ্ধে এক নীরব সংগ্রামী আর্সেনিক গবেষক ও মানবদরদি চিকিৎসক ডা. শিবতোষ রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু নাম অমলিন হয়ে থাকে তাদের নিঃস্বার্থ কর্মযজ্ঞের কারণে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবসেবার ইতিহাসে তেমনই একটি উজ্জ্বল নাম—ডা. শিবতোষ রায়। একজন চিকিৎসক হয়েও যিনি নিজেকে শুধু হাসপাতালের চৌহদ্দিতে আবদ্ধ রাখেননি, বরং নিঃশব্দে যুদ্ধ করে গেছেন দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা—আর্সেনিক দূষণ–এর বিরুদ্ধে।
🌱 জন্ম ও শিকড়
ডা. রায়ের শৈশব কেটেছে প্রকৃতির কোলে, একেবারে মাটির মানুষদের সঙ্গে। সেই মাটির টান থেকেই তার চিকিৎসকের হাত ধরেই আরম্ভ হয় এক অনন্য যাত্রা—একজন ‘স্বাস্থ্যের ফেরিওয়ালা’ থেকে হয়ে ওঠেন ‘আর্সেনিক সচেতনতার দূত’। হয়তো তখনও তিনি জানতেন না, জীবনের ছন্দ একদিন ভেঙে দেবে আর্সেনিক নামক নিরব বিষ।
🌱 জন্ম ও বেড়ে ওঠা
ডা. রায়ের জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার গ্রামে। গ্রামীণ সমাজের অসহায় মানুষদের দুঃখ-কষ্ট আর অপ্রতুল চিকিৎসাসেবার বাস্তবতা তাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়ে তিনি চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, তবে তাঁর কর্মপরিধি ছিল ব্যতিক্রমী—তিনি ছিলেন গবেষক, মাঠকর্মী এবং সমাজসচেতন চিন্তাবিদ।
প্রঁয়াত ডা: শিবতোষ রায় এস এস সি পাশ করেন ১৯৬৬ সাল ,এইচ এস সি পাশ করেন ১৯৬৮ সাল ,এম,বি,বি,এস পাস করেন ১৯৭৩ সাল এবং ইন্টার্ণী শেষ করেন ১৯৭৫ সাল
ইন্টারমিডিয়েন্ট পাশ করার পর তার বাবার অনুপ্রেরানায় চিকিৎসক হবার স্বপ্ন নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে এম.বি.বি,এস ডিগ্রী লাভ করেন । ইন্টার্ণীশিপ শেষ করার পর প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ থানা হাসপাতালে টি ,এইচ, এ হিসাবে যোগদান করেন। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পরে তিনি ১৯৮২ সাল জানতে পারেন কুড়িগ্রামে টি.ডি.এইচ (ছিন্নমুকুল) নামে একটি বিদেশি এন.জি.ও ঐ এলাকায় অপুষ্টিজনিত শিশুর জীবন বাাঁচানোর জন্য কাজ করে থাকেন ।তখন তিনি সরকারী চাকুরীতে ইস্তাফা দিয়ে ঐ Organisatin যোগদান করেন । এবং নিরলসভাবে পুষ্টিহীন শিশুদের সেবাযন্ত্র করতে থাকেন । পরবতী ঐ এন,জি,ও দের কাজের সুবিধার্থে তাদের কাছে লোন নিয়ে পিজি হাসপাতালে ডি,সি, এইচ কোর্সে ১৯৭৪ সালে ভর্তি হন এবং ১৯৮০ সালে সস্মানে সাথে ডিপলোমা চাইল্ড হেলার্থ ( ডি,সি, এইচ) ডিগ্রী লাভ করেন । এরপর তিনি ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রথম রেজিস্টার হিসাবে এবং ৬ মাস পরে Resident Physician হিসাবে কাজ করেন ১৯৮৬ সাল পযর্ন্ত।
এরপর ইরান সরকারের অধীনে Child Spicialist হিসাবে একটি জেলা শহর Masjed-e-Solaiman এর সরকারী হাসপাতালে কাজ করেন ।
১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশে ফিরে তিনি ঢাকা কমিউনিটি হাসপতাল ট্রাস্টে যোগদান করেন ।এবং আর্সেনিক রোগী সনাক্তকরণ টিমে থাকা এবং নিরলস ভাবে মৃত্যুর পূর্বক্ষন পযর্ন্ত সংগ্রাম করে য়ান।
২০০১ সালে সালের ২রা জুলাই আর্সেনিক রোগীর সনাক্ত এবং ওদের জন্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে দিনাজপুর অঞ্চলে গেলে ফেরার পথে রংপুরের কাছে তারাগঞ্জ নামক স্থানে ট্রাকের সঙ্গে তাদের মাইক্রো বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মৃতুবরণ করেন ।একটি সংগ্রামী জীবনের অবসান ঘটে।
শুরুর দিনগুলো
ছোটবেলায় গ্রামের মানুষদের দুঃখ-কষ্ট, পানির সংকট, রোগ-ব্যাধি চোখে দেখে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটা তার হৃদয়ের গভীরে তখনই জন্ম নেয়। মেডিকেল পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু তার জীবন শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালে আটকে ছিল না। তিনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন মাঠে, মানুষের কাছে, আক্রান্তদের পাশে।
মাঠের মানুষ, মাটির যোদ্ধা
ডা. রায়ের চিকিৎসা ছিল পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছুটে গেছেন দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৬০টি উপজেলায়, নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন পানির নমুনা, খুঁজে বের করেছেন আক্রান্ত মানুষদের, শোনেছেন তাদের গল্প। তিনি বলতেন—
“নলকূপের পানি যখন বিষে রূপ নেয়, তখন শুধু ওষুধে নয়, হৃদয়ের কাছে গিয়ে মানুষকে বোঝাতে হয়—তাদের জীবন ঝুঁকিতে।”
তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে field doctor-scientist—একজন যিনি গবেষণাগারের বাইরে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমাধানের পথ খুঁজেছেন।
বিষাক্ত পানির দেশে
৯০-এর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে—ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। কোটি কোটি মানুষ তখন বিষ পান করছিল—না জেনে, না বুঝে। সেই মুহূর্তেই দৃঢ়চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. রায়। তার বিশ্বাস ছিল—“একটি মানুষও যদি সচেতন হয়, একটি প্রাণও যদি বাঁচে—আমার পরিশ্রম সার্থক।”
🔬 আর্সেনিক: নিঃশব্দ ঘাতক, যার বিরুদ্ধে রায় ছিলেন পূর্বাভাসদাতা
১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশে প্রথমবার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। সে সময় সরকারি নীতির বাইরে গিয়েও ডা. রায় শুরু করেন মাঠ পর্যায়ের রোগী চিহ্নিতকরণ এবং পানির নমুনা সংগ্রহ। হাজার হাজার মানুষের হাত-পা ঝলসে যাওয়া, ত্বকে ফোস্কা, বিষাক্ত দাগ—এসব তার চোখে ছিল না কেবল অসুখের উপসর্গ, বরং ছিল এক মহাদুর্যোগের পূর্বাভাস।
তাঁর নেতৃত্বে চালানো গবেষণায় পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য:
এই গবেষণাই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংগঠনের নজরে আনে বাংলাদেশের বাস্তবতা।
🌟 তাঁর উত্তরাধিকার
প্রতি বছর ২ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল, তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করেন। এ উপলক্ষে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ বাসভবন ও মন্দিরে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডা. শিবতোষ রায়ের জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে আর্সেনিক দূষণ মোকাবিলার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর গবেষণা, মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রতিবছর ঢাকায় তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে কমিউনিটি হাসপাতাল স্মরণসভা করে। তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং হাজারো রোগী তাঁর কর্মের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে।
কিন্তু তার প্রকৃত উত্তরাধিকার হলো প্রতিটি আর্সেনিক-মুক্ত পানির কূপ, প্রতিটি সচেতন কৃষক, সেই শিশুটি যার হাতের ফোস্কা দেখে একজন ডাক্তার বলে, “এই পানি খাবেন না।”
গবেষণা ও মাটির মানুষের ডাক
তিনি মাঠে-মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছেন—ঠাকুরগাঁও থেকে বরগুনা, কিশোরগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরা। ৬৪ জেলার প্রায় ৪৬০টি উপজেলা ঘুরে নিজের হাতে সংগ্রহ করেছেন পানির নমুনা, চিহ্নিত করেছেন আক্রান্ত রোগীদের। শুধু রোগ নির্ণয় নয়, তিনি ছিলেন গবেষকও। CSIRO (অস্ট্রেলিয়া), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিভাগ ও ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের যৌথ গবেষণায় তিনি ছিলেন প্রাণভোমরা।
তার প্রকাশিত গবেষণাপত্র—“Groundwater Arsenic Calamity in Bangladesh”—বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। মানুষ বুঝতে শেখে, এই নিঃশব্দ ঘাতক আর্সেনিক ঠিক কত ভয়ানক।
জীবন থেকে জীবন্ত শিক্ষা
তিনি শুধু চিকিৎসক ছিলেন না, ছিলেন মানবপ্রেমিক। একবার একজন কৃষক তাকে বলেছিলেন, “ডাক্তার সাহেব, আমার ছেলেটার হাতের চামড়া খসে যাচ্ছে। আপনি না এলে আমরা জানতামই না, এটা পানির দোষ।” এই একেকটি বাক্য তাকে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করত।
ঢাকায় ফিরে এসে তিনি নিয়মিত ওয়ার্কশপ, চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করতেন। গ্রামে-গঞ্জে ছুটে যাওয়া, মানুষকে বোঝানো, সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি তুলে ধরা—সবই করতেন একা এবং নিঃস্বার্থভাবে।
ডা: শিবতোষ রায় ও ঢাক কমিউনিটি হাসপাতালের আর্সেনিক বিষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কমিউনিটি হাপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ডি,সি, এইচ ট্রাস্টের চেয়াম্যান প্রফেসার কাজী কামরুজ্জামান এর নেতুত্বে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন । শুরুতে চেয়ারম্যান বিভিন্ন দেশের বৈঞ্জানিকদের সাথে যোগাযোগ করেন ।এর ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন দেশের রিসার্চ অর্গানাইশনের সাথে সম্মিলিত ভাবে আর্সেনিক বিষের বিরুদ্ধে একত্রে গবেষনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয় । সে টিমে ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মৃত্তিকা বি্জ্ঞান বিভাগ,অস্টেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (CISRO) এবং ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্টে । এই টিমে কাজ করার জন্য ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল হইতে ডা: শিবতোষ রায় ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার গবেষক ডা: মোস্তাক আহম্মদ এবং একজন ছাত্রী অস্টেলিয়ায় ট্রেনিং এর জন্য গিয়েছিলেন।
হঠাৎ থেমে যাওয়া
২০০১ সালের ২ জুলাই, রংপুরের তারাগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ বছর বয়সে অকালে চলে যান এই মানবদরদি গবেষক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মানুষের ঘরে-ঘরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সচেতনতার আলো।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারিয়েছিল এক নিঃস্বার্থ যোদ্ধাকে, গবেষণাজগত হারিয়েছিল একজন দিশারিকে।
আজও বেঁচে আছেন তিনি
প্রতিবছর তার স্মরণে তাঁর পরিবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় স্মরণ হলো সেই অগণিত মানুষ, যারা আজও তার দেওয়া বিশুদ্ধ পানির উৎস ব্যবহার করে বাঁচছে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান হলো—তাকে মনে রাখা নয়, বরং তার কাজটিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।
📘 আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে যিনি সাদাকালো অক্ষরের ঊর্ধ্বে
উল্লেখযোগ্য গবেষণাপত্র:
এই গবেষণাগুলোতে ডা. রায় শুধু তথ্য দিয়েছেন না—তিনি সেখানে রেখেছেন মানুষের ব্যথা, প্রতিরোধের আশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য এক স্বচ্ছতার আহ্বান।
✨ ডা. শিবতোষ রায় প্রমাণ করেছিলেন, একজন মানুষ ইচ্ছা করলে কতদূর যেতে পারেন মানুষের কল্যাণে। তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ, নিবেদিতপ্রাণ, একান্ত একজন চিকিৎসক—যিনি শুধু শরীরের নয়, মানুষের সমাজকেও সারিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
ডা. শিবতোষ রায় আমাদের শিখিয়ে গেছেন, নিঃশব্দ এক দুর্যোগের মুখে কীভাবে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও মানবতা একত্রে দাঁড়াতে পারে। তার জীবন একটি প্রতীক—যেখানে একজন চিকিৎসক কেবল রোগ সারান না, বরং সমাজেরও নিরাময় চান।
তিনি নেই, কিন্তু তার কাজ বেঁচে আছে—জলে, মাটিতে, গবেষণাপত্রে, আর সবচেয়ে বেশি—মানুষের মনে।
💔 তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সার্বেত্রী রায়কে হাসপাতালে চাকুরীতে নিয়োগ করা হয় । তাঁদের ২ কন্যাকে স্কলারশীপের ব্যবস্থা করে ট্রাস্ট বোর্ড। বড় কন্যা টাঙ্গাইলের কুমুদ্দিনী মেডিকিল কলেজ থেকে পাস করে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে চাকুরী করেন এবং পরবতী কালে জার্মনী গমন করেন । ছোট মেয়ে বিএস সি ইন্জিনীয়ারী পাস করে আমেরিকা গমন করে ।সেখানে এম এস সি ও ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করে আমেরিকার রাজ্যের মিশিকান স্টেষ্ট এর একটি ইউনিভারসিটি তে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ কর্মরত । তাঁদের মাতা সাবিত্রী রায় এখন আই সি এইচ বি তে জনসংয়োগ পদে কাজ করে চলেছেন ।