শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
নিষিদ্ধ নগরীর নীরব ইতিহাসের পথে – মো: আনিছুর রহমান একই দিনে রাজধানীর দুই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন, এনসিসি ব্যাংকের ১ কোটি টাকা অনুদান ১০ লাখ টাকা খরচ করেও একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না’ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস আজ ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে কেক কেটে দিবসটি পালন সিএমএইচ থেকে চিকিৎসা শেষে নিখোঁজ কোরআন হাফেজ তামিম মেসির সম্মানে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ম্যাচে ১০ মিনিটে খেলা বন্ধ, হবে এক মিনিটের করতালি বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ চূড়ান্ত, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও মহার্ঘ্য ভাতার দাবিতে বৃহস্পতিবার সমাবেশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ উঠছে নতুন পে-স্কেলের খসড়া

নিষিদ্ধ নগরীর নীরব ইতিহাসের পথে – মো: আনিছুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদন / ৬ জন দেখেছেন
আপডেট : September 12, 2026

রাজধানী বেইজিংয়ের একেবারে কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়—ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী। চীনা ভাষায় যার নাম ‘জিজিনচেং’ (紫禁城), আর পরিচিত নাম গুগং। দূর থেকে এর লাল দেয়াল, বিশাল ফটক আর সোনালি ছাদের সারি দেখলেই বোঝা যায়—এটি শুধু একটি প্রাসাদ নয়, একসময় এটি ছিল চীনের রাজকীয় ক্ষমতার কেন্দ্র।

নিষিদ্ধ নগরীর সামনে দাঁড়ালে প্রথমেই চোখে পড়ে এর বিশালত্ব। ১৪০৬ সালে শুরু হয়ে ১৪২০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠে এই রাজপ্রাসাদ। প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে এখান থেকেই চীনের রাজনীতি ও শাসন পরিচালিত হয়েছে। মিং ও ছিং রাজবংশের ২৪ জন সম্রাট এই প্রাসাদে বসেই সাম্রাজ্য শাসন করেছেন।

‘নিষিদ্ধ নগরী’ নামটির মধ্যেও রয়েছে রাজকীয় কঠোরতার গল্প। একসময় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না এখানে। সম্রাট, তাঁর পরিবার এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের জন্য এই রাজপ্রাসাদ ছিল কার্যত নিষিদ্ধ এক জগৎ। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকেই নাম—ফরবিডেন সিটি।

প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি প্রায় ৭৪ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। চারদিকে রয়েছে উঁচু প্রতিরক্ষা প্রাচীর এবং প্রশস্ত পরিখা। এর ভেতরে ছড়িয়ে আছে প্রায় ৯৮০টি ভবন। প্রচলিত লোককথায় বলা হয়, এখানে ছিল ৯ হাজার ৯৯৯টি কক্ষ—কিন্তু ঐতিহাসিক হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কম।

স্থাপত্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর রঙের ব্যবহার। উজ্জ্বল লাল দেয়ালের ওপর সোনালি-হলুদ ছাদ যেন রাজকীয়তার আলাদা ভাষা তৈরি করেছে। প্রাচীন চীনা সংস্কৃতিতে হলুদ ছিল সম্রাট ও রাজপরিবারের প্রতীক। ফলে পুরো প্রাসাদজুড়ে এই রঙের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নিষিদ্ধ নগরী ঘুরতে গিয়ে কিছু বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে। বাইরের রাজপ্রাঙ্গণে গাছপালার উপস্থিতি খুবই সীমিত। এর পেছনে নিরাপত্তা ও রাজকীয় স্থাপত্যের গাম্ভীর্য রক্ষার নানা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আবার প্রাসাদের ছাদের নকশা, কারুকাজ ও ঢালও দর্শনার্থীদের কৌতূহলী করে তোলে। প্রতিটি স্থাপত্য উপাদানের মধ্যেই যেন কোনো না কোনো প্রতীকী অর্থ লুকিয়ে আছে।

একসময় যে জায়গায় প্রবেশ ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, আজ সেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ ইতিহাসের সাক্ষী হতে আসেন। ১৯২৫ সালে নিষিদ্ধ নগরীকে জাদুঘর হিসেবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে বিপুলসংখ্যক প্রাচীন শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

নিষিদ্ধ নগরী ঘুরে মনে হয়, এখানে শুধু ইট, কাঠ, পাথর আর টাইলসের স্থাপত্য নেই—আছে কয়েক শতাব্দীর রাজনীতি, ক্ষমতা, রাজপরিবারের জীবন আর অসংখ্য অজানা গল্প। লাল দেয়াল পেরিয়ে এক প্রাঙ্গণ থেকে আরেক প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, সময় যেন কয়েকশ বছর পিছিয়ে গেছে।

নিষিদ্ধ নগরী তাই শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি চীনের রাজকীয় অতীতের জীবন্ত স্মারক।

 


অন্যান্য সংবাদ