মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি সন্তান ডা. সজীব চন্দ্র মন্ডল, চিকিৎসাসেবায় গর্বিত গোটা ইউনিয়ন কাঁচের সেতুতে দাঁড়িয়ে মেঘের দেশে- মো: আনিছুর রহমান ষাট দশকের ক্রিকেট এই বাংলায় সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি মধুর কিছু সময়: বেইজিংয়ের স্বর্গের মন্দিরে – মো: আনিছুর ইসলাম নিষিদ্ধ নগরীর নীরব ইতিহাসের পথে – মো: আনিছুর রহমান একই দিনে রাজধানীর দুই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন, এনসিসি ব্যাংকের ১ কোটি টাকা অনুদান ১০ লাখ টাকা খরচ করেও একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না’ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস আজ ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে কেক কেটে দিবসটি পালন

ইসলামি স্থাপত্যে কুফা শহরের অনন্য নগর পরিকল্পনা

মো : তুষার হোসেন / ২৪৭ জন দেখেছেন
আপডেট : May 7, 2026

ইসলামের ইতিহাসে কুফা শুধু একটি শহরের নাম নয়, বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত ইসলামি নগরায়ণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ইরাকের এই ঐতিহাসিক শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব–এর নির্দেশনায় এবং সাহাবি সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস–এর তত্ত্বাবধানে ১৭ হিজরিতে।

পারস্য বিজয়ের পর মুসলিম সৈন্যরা মাদায়েন অঞ্চলের আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে খলিফা ওমর (রা.) এমন একটি স্থান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন, যা আরবের মরু আবহাওয়ার মতো শুষ্ক ও স্বাস্থ্যকর হবে। পরে সালমান ফারসি ও হোজায়ফা (রা.)–এর পরামর্শে হিরা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী কাঁকরময় ভূমিকে নতুন শহর গড়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। আরবি ভাষায় কাঁকরযুক্ত ভূমিকে “কুফা” বলা হয় বলেই শহরটির নামকরণ হয় কুফা।

কুফা শহরের পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে নগর গড়ে তোলা। শহরের নকশা তৈরির সময় প্রথমেই জামে মসজিদের স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হয় বায়তুলমাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং প্রশাসনিক ভবন। এতে বোঝা যায়, ইসলামি নগর পরিকল্পনায় মসজিদ ছিল শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

শহরটির সড়ক ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত ও দূরদর্শী। প্রধান সড়কগুলো প্রায় ৪০ হাত প্রশস্ত রাখা হয়েছিল। ছোট সড়ক ছিল ৩০ হাত চওড়া এবং গলিপথও কমপক্ষে ৭ হাত প্রশস্ত ছিল। সে সময়ের তুলনায় এই পরিকল্পনা ছিল বিস্ময়কর। প্রশস্ত রাস্তা শহরের বায়ু চলাচল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। আধুনিক নগর পরিকল্পনার মতো তখনও খোলা পরিবেশ ও চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

খলিফা ওমর (রা.) আবাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিশেষ নীতি অনুসরণ করেন। অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষার জন্য ইটের ঘর নির্মাণের অনুমতি থাকলেও তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনো বাড়ি যেন অতিরিক্ত উঁচু না হয় এবং তিন কক্ষের বেশি না হয়। এতে শহরের ভারসাম্য, সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সরলতা বজায় থাকত।

কুফা ছিল বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজেরও উদাহরণ। প্রথমদিকে এখানে মুসলিম মুজাহিদরা বসবাস করলেও পরে পারস্যের কিছু সেনাদল জিজিয়ার বিনিময়ে বসবাসের অনুমতি পায়। এছাড়া নাজরানের ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের জন্যও পৃথক মহল্লা গড়ে তোলা হয়। ফলে কুফা ধীরে ধীরে একটি বৈচিত্র্যময় নগরীতে পরিণত হয়।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলি ইবনে আবু তালিব ৩৬ হিজরিতে রাজধানী মদিনা থেকে কুফায় স্থানান্তর করেন। সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে কুফার গুরুত্ব তখন আরও বেড়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর কুফা ইসলামি খেলাফতের রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইসলামি স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার ইতিহাসে কুফা আজও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। শহরটির পরিকল্পনায় যেমন আধুনিকতার ছাপ ছিল, তেমনি ছিল স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্যের প্রতি গভীর গুরুত্ব। কুফা প্রমাণ করে, প্রাচীন ইসলামি সভ্যতায় নগর পরিকল্পনা কতটা উন্নত ও সুদূরপ্রসারী ছিল।


অন্যান্য সংবাদ