সিরাজদিখানের মালখানগর, কাজীরবাগসহ সমগ্র বিক্রমপুরের মানুষের কাছে আ. রউফ চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী স্বপ্নদ্রষ্টা ও আধুনিক শিল্পায়নের অগ্রদূত। তাঁর কর্মময় জীবন প্রমাণ করে, দৃঢ় সংকল্প, সততা ও পরিশ্রম থাকলে একজন মানুষ শুধু নিজের নয়, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
একটি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৭৯ সালে তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করেন। সেই ছোট্ট সূচনা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান র্যাংগস গ্রুপ ও সি রিসোর্সেস গ্রুপ। তাঁর নেতৃত্বে অটোমোবাইল, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, আবাসন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণসহ নানা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও সাফল্য অর্জিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসায় নতুন নতুন ধারণা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গভীর সমুদ্রে আন্তর্জাতিক মানের মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরাসরি রপ্তানির আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক এশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তাঁর নেতৃত্বে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো যুগান্তকারী সেবা চালু হয় এবং পরবর্তীতে ডিজিটাল ব্যাংকিং বা নিওব্যাংকের ধারণাও গুরুত্ব পায়।
ব্যবসার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও জ্বালানি খাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়াওয়ার্ল্ড লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় কাজ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখেন।
আ. রউফ চৌধুরীর উদ্যোগে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির অনুপ্রেরণাও দিয়েছেন। তাঁর কর্মদর্শন আজও তরুণ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং দেশের উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করে।
বিক্রমপুরের এই কৃতী সন্তান তাঁর কর্ম, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।