রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
এই মুহূর্তের খবর :
মাওয়া হাইওয়ের পাশে নিমতলা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী দখলের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী গ্যাসসংকটে শিল্প খাত বিপর্যস্ত, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাড়ছে শঙ্কা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক: ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের মায়ের সেবা – মো: আশিকুর রহমান স্বাধীন পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন PRP থেরাপি: শরীরের নিজের শক্তিতেই সুস্থতার নতুন সম্ভাবনা -ডাঃ চৈতী মালাকার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সার সংকটের আশঙ্কায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, বিপদে পড়তে পারেন ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি মুন্সীগঞ্জের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) জামাল উদ্দিন চৌধুরী (এমপি): মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনানায়কের জীবন ও অবদান গ্রামীণ সড়কে বারবার পিচ উঠে যাওয়া: টেকসই সমাধানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের দাবি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৫ দিনে ৩৩ প্রাণহানি, লাখো মানুষ পানিবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৭ জন দেখেছেন
আপডেট : July 11, 2026

টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত পাঁচ দিনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, দেয়াল ধস এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২২ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী আরও দু-এক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং নিচু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রেলপথে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং বিভিন্ন সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগরে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরসভা, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কাচালং নদীর পানি বেড়ে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল এবং সাজেকগামী সড়ক প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পানি ওঠায় আটকে পড়া ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দীঘিনালার একাধিক সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ থেকে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

 


অন্যান্য সংবাদ